আপনার ফেসবুক একাউন্ট কতটুকু নিরাপদ ?

ইদানিং ফেসবুক ,প্রথম আলো ,সামহোয়ার ইন . কোনো কোনো যায়গায় “ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হবে না “ এই টাইপের শিরনামের পোষ্ট দেখছি । আমি কোনো ভাষাবিদ নই। কিন্তু আমি আমার সীমিত জ্ঞ্যান থেকে এটুকু বলতে পারি যে , ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হবে না! কথাটা ভুল ।কারন কোন কিছুই অসম্ভব নয়। লিঙ্ক থেকে পোস্টটা পরলেই বুঝতে পারবেন প্রব্লেমটা কোথায়। লিঙ্ক যেন না চাপতে হয় সেজন্য লিঙ্ক থেকে কাট-পেষ্ট করে দিলাম।“আপনার ফেসবুকের ই-মেইল ঠিকানা, পাসওয়ার্ড যদি সবাই জেনে যায়, তবু কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। এর জন্য প্রথমে সামাজিক যোগাযোগর ওয়েবসাইট ফেসবুকে ঢুকে (লগ-ইন) ডান পাশের
Account থেকে AccountSettings-এ যেতে হবে। এখন নিচে Account Security-এর ডান পাশের change-এ ক্লিক করুন। এখন Login Approvals-এর নিচে Require me to enter a security code sent to my phone বক্সে টিক চিহ্ন দিন। টিক চিহ্ন দেওয়ার সময় নতুন একটি বার্তা এলে Set Up Now-এ ক্লিক করুন। এখন Phone number: বক্সে আপনার মোবাইল নম্বর লিখে Continue-এ ক্লিক করুন। আপনার মোবাইল ফোনে একটি সাংকেতিক (কোড) নম্বর আসবে। নম্বরটি কোড বক্সে লিখে Submit Code বাটনে ক্লিক করে Close-এ ক্লিক করুন। (Login Notifications-এর নিচে Send me an email এবং Send me a text message বক্সেও টিক চিহ্ন দিয়ে রাখতে পারেন।) এখন Save-এ ক্লিক করে বেরিয়ে আসুন। এখন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বেরিয়ে (লগ-আউট) আবার ফেসবুকে লগ-ইন করুন। দেখবেন Name New Computer নামে একটি পেইজ এসেছে। সেখানে Computer name বক্সে কোনো নাম লিখে Add to your list of recognized devices বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে Continueতে ক্লিক করুন। এখন থেকে প্রতিবার আপনার কম্পিউটার ছাড়া অন্য কারও কম্পিউটার থেকে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে চাইলে আপনার মোবাইলে একটি কোড নম্বর আসবে এবং সেই কোড নম্বরটি কোড বক্সে লিখে Continue-এ ক্লিক করলেই আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাবে। কাজেই আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড সবাই জানলেও কেউ আপনার ফেসবুকে লগইন করতে পারবে না।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, মোবাইল নম্বর যদি হারিয়ে যায় বা ছিনতাই হয়ে যায়, তাহলে? সে ক্ষেত্রে আপনি অন্য কারও কম্পিউটার থেকে লগইন করতে পারবেন না। আপনার নিজের কম্পিউটার থেকে লগইন করতে পারবেন এবং সেটিংসে গিয়ে মোবাইল নম্বরও পরিবর্তন করতে পারবেন।
যারা জানেন না তাদের জন্য, যখন কোন ওয়েবসাইটে আপনি প্রবেশ করেন তখন আপনার কম্পিউটার/মোবাইল এ cookie সেভড হয়। এই কুকিকে অনেকে ব্রাউজার কুকি বা ওয়েব কুকিও বলে থাকে। এটা এক ধরনের ডাটা প্যাকেট যার মধ্যে সাধারনত ইউজার আইডেন্টিফিকেশন, ইনফর্মেশন থাকে। যখন কেউ ফেইসবুক এ ঢোকে তখন আপনার ব্রাউজার এ ফেইসবুক এর কোন কুকি আছে কিনা তা চেক করা হয়। না থাকলে ফেইসবুকের নেইম দিস ডিভাইস নামক পেইজটি আসে । এই সময়ে পিসিতে একটা কুকি সেভ হয়। এই কুকি যতদিন থাকবে ততদিন আপনার লগড ইন সেশন থাকবে+ আপনার ডিভাইসটি ফেইসবুকের কাছে চেনা থাকবে। এখন কথা হল যদি আপনার মোবাইল নাম্বার যদি আপনার নিয়ন্ত্রনে না থাকে+কুকি যদি ডিলিট হয়ে যায় তাহলে অবস্থাটা চিন্তা করে দেখুন।আবার অনেকে জেনে না জেনে কুকি অটো ডিলিট কমান্ড দিয়ে রাখেন। তারা কি প্রত্যেকবার মোবাইল থেকে কোড নাম্বার টিপবেন ???
আচ্ছা ধরলাম এই রকম এক্সট্রিম সিচুএশন সহজে কেউ ফেস করে না। তারপরও কথা থেকে যায়। সেটা হল কুকি চুরি করা যায়। যিনি হ্যাকার তিনি যদি জেনে থাকেন কিভাবে কুকি চুরি করতে হয় তাহলে
এখন বলুন তো লগইন এপ্রুভাল চালু করলে ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হবে না কথাটা কতটুকু সঠিক ?
কম্পিউটার কিংবা ফেসবুকের এর নিরাপত্তা একটি জটিল বিষয় । এই বিষয়ে যেনতেনো ভাবে একটা টিপস দেয়া বড়ই ভয়ঙ্কর। এতে সমস্যার পরিমান বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হ্যা লগইন এপ্রুভাল দিয়ে ফেসবুক হ্যাকিং অনেক অংশেই থামানো যায় কথা সত্য কিন্তু “লগইন এপ্রুভাল চালু করুন , ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হবে না” এইরকম দাবি করাটা আমার কাছে মোটেও যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না ।
 এবার একটা ছোট্ট টিপস দেই যেটা আপনার একাউন্টকে হ্যাকিং এর হাত থেকে কিছুটা হলেও বাচাবে ।

এ পর্যন্ত যত একাউন্টেই এমন হয়েছে তাদের শতকরা ৯০% এরই একটি মিল আছে। তা হল তারা প্রচুর পরিমানে এপ্লিকেশন ব্যবহার করে। এগুলিকে সংক্ষেপে এপস (Apps) বলে। এই এপস গুলি বিভিন্ন অনেকে নির্দিধায় এগুলি এড করেন। কিন্তু হয়ত জানেনই না যে এটাই কত বড় আকাজ করতে পারে। আমার নিজের অবজারভেশন থেকে একটা এপস এর কথা বলি যেটা সব থেকে বেশি ছড়িয়েছে সবার মধ্যে সেটা হল ভিডিও চ্যাট! হ্যাঁ ফেসবুকে ভিডিও চ্যাট করার জন্য অপশন আছে, কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ আসল রাস্তায় না গিয়ে ধরে ভূল রাস্তা। আর তার পর থেকে তার ফ্রেন্ডরাও পড়ে বিপদে। চ্যাটে আসলেই শুধু একটু পর পর লিংক পাঠায় যে এই এপস ব্যবহার করলে তারাও ভিডিও চ্যাট করতে পারবে। কিন্তু চ্যাট চালু করার পদ্ধতি অন্য রকম।
আপনার চ্যাট করার সময় চ্যাট বক্সের পাশে ছোট্ট অংশে ক্লিক করলে দেখবেন যে ফেসবুকের একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড হবে, সেটা ইন্সটল করলে আপনি সহজেই ভিডিও চ্যাট করতে পারবেন। বাড়তি কিছু এপস ব্যবহার করার কোন দরকার নাই।
এবার কিছু মেজাজ খারাপ করা কথা বলি। কিছু মানুষ কিছু এপস দেখলে জ্বিহ্বা সামলাতে পারেন না। সেগুলির কিছুর নাম বলি, বেষ্ট ফ্রেন্ড, টপ ফ্রেন্ড, লাভার অফ দ্যা ডে, ফ্রেন্ড হু লাভস মি, বার্থডে রিমাইন্ডার, হাউসেক্সি ইউর নেইম ইজ, লাক ডেইলি আরো হাবিজাবি ।
একটা বার চিন্তা করেছেন কি, এইগুলি ব্যবহার করে আপনি নিজেকে এবং আপনার বন্ধুদের কে কোথায় নামাচ্ছেন? আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড আমার ফেসবুকে আছে ঠিকই, কিন্তু সে খুব একটা কমেন্ট করে না। কিন্তু আমার এমন কিছু ফ্রেন্ড আছে যারা আমাকে হেয় করার জন্য সব সময় উল্টাপাল্টা কমেন্ট করে। আমি যদি এই ধরণের কোন এপস ব্যবহার করি, তাহলে আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড লিষ্ট থেকে বাদ পড়বে, এবং এই আকাজ করার দলগুলি লিষ্টে আসবে। বুঝেন অবস্থা।
এই এপস গুলি আবার আর একটা ঝামেলা করে, তা হল ফটো ট্যাগ করা। দুনিয়ার হাবিজাবি ফটোগুলিকে ট্যাগ করতেই থাকে। এবং প্রায় সময় তা ব্যবহার করিকে না জানিয়েই।
আশাকরি এই পোষ্ট পড়ার পর আপনার এপস ব্যবহারে কিছুটা হলেও সংযমী হবেন।
এটা তো গেল আমাদের একাউন্টকে হ্যাকারদের হাত থেকে নিরাপদ রাখার পর্ব।এখন প্রশ্ন হল ফেসবুকের নিজস্ব নিরাপত্তা কতটুকু শক্তিশালি ? ফেসবুক পেজের কথাটাই ধরুন ।ফেসবুক পেজ হল ফেসবুকের একটি শক্তিশালি মাধ্যম ।ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ইচ্ছা করলে একজন এডমিন মুহুর্তের মাঝে হাজার হাজার মানুষের কাছে কোনো মেসেজ পৌছে দিতে পারেন্।কিন্তু আপনি কি জানেন এই ফেসবুক পেজ কতটা নিরাপত্তাহীন ?
ফেসবুকে হেল্প সেন্টারের এক জায়্গায় লেখা রয়েছে পেজের ক্রিয়েটরকে কখনই রিমুভ করা সম্ভব নয় ।কিন্তু এই কথাটা সত্যি নয় ।অর্থাৎ পেজের যেকোনো এডমিন ইচ্ছা হলে যেকোনো মুহূর্তে পেজের ক্রিয়েটরকে রিমুভ করে দিতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে পেজের ক্রিয়েটর জানতেও পারবেন না কে তাকে রিমুভ করেছে ।এটাকে ফেসবুকে সিকিউরিটি হোল বলা হয় ।একসময় ফেসবুকের এই টপিকটি নিয়ে ব্যাপক সাড়া পরে এবং হাজার হাজার ফিডব্যাক জমা পরে ফেসবুকের সেই টপিকের বিরুদ্ধে।
তুমুল বিতর্কের পরে ফেসবুক স্বীকার করে তাদের সিকিউরিটির দুর্বলতার কথা।সেই সাথে এটাও স্বীকার করে যে পেজে ক্রিয়েটর কিংবা কিংবা কোনো এদমিনকে যদি অন্য কোনো এডমিন রিমুভ করেন তাহলে ফেসবুকে কোনো ক্ষমতা নেই পেজের ক্রিয়েটরকে তার এডমিনশিপ ফিরিয়ে দেয়া।
undefined
তবে এক্ষেত্রে যদি এমন কোনো ব্যাবস্থা থাকত যাতে ক্রিয়েটরকে রিমুভ করতে হলে তার অনুমতির দরকার পরবে কিংবা তার কাছে মেসেজ যাবে তাহলে ফেসবুক পেজ অনেকটাই সিকিউর থাকত বলা যায় ।কিন্তু সেরকম কোনো ব্যাবস্থা এখনো করা হয়নি তাই আজো নিরাপত্তাহীন রয়ে গেছে ফেসবুকের এই শক্তিশালি গনমাদ্ধ্যমটি। ধন্যবাদ সবাইকে ।